Wellcome to National Portal
বাংলা একাডেমি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৪ অক্টোবর ২০২১

ফোকলোর উপবিভাগ

১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমি সূচনাপর্ব থেকে গোটা দেশের বহুবিচিত্র লোকউপাদান সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণে ব্রতী হয়। ষাটের দশকের প্রথম থেকেই একাডেমি সারাদেশ থেকে নিয়োজিত ও অনিয়োজিত সংগ্রাহকদের মাধ্যমে ফোকলোরের উপাদান সংগ্রহের কাজ শুরু করে। জেলাভিত্তিক এসব সংগ্রহের মধ্যে রয়েছেগীতিকা, লোকনাটক, ছড়া, প্রবাদ, প্রবচন, ধাঁধা, লোকসংগীত, পুথি, কিস্সা-কাহিনি, লোকগল্প, লোকশিল্পের উপাদান, লোকবিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠানের সংস্কার, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল ও সিলেটের মনিপুরি অঞ্চলসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের আদিবাসীদের নানা সাংস্কৃতিক উপাদান-উপকরণ। বিগত শতকের ষাটের দশক থেকে শুরু করে বাংলাদেশ আমলের আশির দশক পর্যন্ত এসব উপাদান-উপকরণ জেলাভিত্তিকভাবে বিন্যস্ত করে প্রায় হাজার খণ্ডে সংরক্ষণ করা হয়। একাডেমির সংগ্রহে এর বাইরেও অবিন্যস্তভাবে কিছু উপকরণ রয়েছে। সংগৃহীত এসব সাংস্কৃতিক উপাদানের গুরুত্ব অনেক। ১৯৬০-এর দশকে চেকপণ্ডিত দুশান জ্যাভিতেল বাংলা একাডেমিতে এসে মৈমনসিংহ গীতিকার ওপর তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণামূলক কাজ করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি-ভাবুকদের সঙ্গে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ-সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ সংযোগ ঘটে। তখন বাংলাদেশের বাঙালি জাতিসত্তারও উদ্ভবকাল। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও  শেকড় সন্ধানের মধ্যদিয়ে বাঙালিত্বের নবনির্মাণের প্রয়াস লক্ষণীয়। এই ধারার সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রধান প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে ভাষা আন্দোলনে তরুণ প্রাণের জীবনদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বাঙালির জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।

বাংলা একাডেমি ফোকলোর পত্রিকা

ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা বিভাগ থেকে বাংলা একাডেমি ফোকলোর পত্রিকা শিরোনামে একটি ষাণ্মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত পত্রিকার চারটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও বিদেশের বিভিন্ন ফোকলোর গবেষক ও বিশেষজ্ঞ রচিত ফোকলোর বিষয়ক প্রবন্ধ, ফিল্ডওয়ার্ক, বিশিষ্টজনদের সাক্ষাৎকার, অনুবাদ, ফোকলোর বিষয়ক গ্রন্থের আলোচনা, নাগরিক মঞ্চে ফোকলোর বিষয়ক পরিবেশনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন এই পত্রিকায় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও ফোকলোর সাধকদের জীবন ও বৈচিত্র্যময় কর্মসাধনার কথাও এ পত্রিকার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

প্রকাশনা

ফোকলোর উপবিভাগ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে মোহাম্মদ শেখ সাদী রচিত শাহ আবদুল করিম জীবন ও সংগীত, মিলন কান্তি দে রচিত বাংলাদেশের যাত্রাশিল্প ও অমলেন্দু বিশ্বাস, মুহম্মদ মুহসিন রচিত আবদুল গনি বয়াতির জারিগান : একটি সটীক বিশ্লেষণী পাঠ এবং আমিনুর রহমান সুলতান রচিত আধুনিক ফোকলোর সাধক শামসুজ্জামান খান উল্লেখযোগ্য।


Share with :

Facebook Facebook